হতাশ না হয়ে বিপদের সময়ও মনোবল রাখা।

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কবলে চারিদিকে দুঃসংবাদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি প্রযুক্তিগত যোগাযোগের কল‍্যাণে তার প্রচারের মাত্রাও বেড়েছে কয়েকগুণ। ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমের আগ পযর্ন্ত যদি খারাপ খবরই বেশি শুনা যায় তাহলে মনের অগোচরেই মন খারাপ হয়ে যায়। যা শারীরিক কর্মক্ষমতা ও মনোবলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। মনোবল ভেঙে পড়ার অর্থ হলো আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাওয়া। আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেলে নিজের প্রতি ভরসা হারিয়ে ফেলে মানুষ। জীবনে চলার পথে মনোবল ধরে রাখাটা খুবই প্রয়োজন।

মনোবল মানুষকে বিপদ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার শক্তি যোগায়। মানুষ যদি তার নিজের অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা ও দূর্বলতা সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা না রাখে, পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে যখন ব‍্যর্থতা আসে এবং দূর্বলতাগুলো প্রকাশ পায় তখন মনোবল কমে যায়। চাপমূলক পরিস্থিতিতে অনেকের মনোবল কমে যায়। অন্যের নেতিবাচক কথায় বেশি প্রভাবিত হওয়াও মনোবল কমার অন্যতম কারণ। খুব সহজেই যেকোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা একটি চিন্তাগত ত্রুটি এতে মনোবল কমে। নিজের ব্যর্থতার দায় নিজে নিতে না চাওয়া এবং নিজের কাজের জন্য অন্যকে দোষারোপ করা পক্ষান্তরে নিজের মনোবল কমায়। অনেকে অল্পতেই নার্ভাস বা হতাশ হয়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে মনোবল কমে যায়। একবার ব্যর্থ হওয়ার পর ওই কাজ আর করতে চায় না।
সাফল্যের চেষ্টা করে না এটিও মনোবল কমিয়ে দেয়। অনেকে ভাবে আমাকে পারতেই হবে বা করতেই হবে। তখন একটি বাড়তি চাপ কাজ করে এতে মনোবল কমে যেতে পারে। বরং বলা ভালো আমি কাজটি করার চেষ্টা করবো। আর চেষ্টা করলে কিছু ভালো জিনিস আসে এতে মনোবল বাড়ে। বিভিন্ন মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় মনোবল হারিয়ে যায়। আর মনোবল কমে গেলে কাজের গতি ব্যাহত হয়। এতে ব্যর্থতা, হতাশা গ্রাস করে আরো বেশি। তাই মনোবল বাড়ানো খুবই জরুরি।

◆ বিপদের সময় নতুন কোন সিদ্ধান্ত না নেয়া উত্তম। তবে প্রয়োজন হলে বিজ্ঞজনের পরামর্শ, দূরদর্শিতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে পারিপাশ্বিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে খুব ভেবে-চিন্তে পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত নেয়া। সঠিক সিদ্ধান্তে মনোবল ও কর্মস্পৃহা বাড়ে।

◆ হাত গুটিয়ে বসে থাকলে মনোবল নষ্ট হয়। সবসময় কোন না কোন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখলে মন ভালো থাকে। দুশ্চিন্তা দূর হয়।

◆ প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা ও নতুনত্বের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া। সিদ্ধান্তে নিজ মেধা ও কর্মে প্রযুক্তির সহায়তা নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসে। এতে মনোবল বেড়ে যায়।

◆ নিজের ইতিবাচক গুণাবলীর পরিষ্কার ধারণা রাখা এবং সেগুলোর ওপর বিশ্বাস রাখা যে আমিও পারি।

◆ নিজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব না রাখা। যদি কেউ নিজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রাখে তাহলে অন্য মানুষ নয় সে নিজেই নিজেকে প্রতিনিয়ত ছোট করে চলেছে।

◆ অতীতের গ্লানি মুছে ফেলা। যদি অতীত স্মৃতি নামক দূর্বলতাকে ঝেড়ে ফেলা যায় তাহলে নিজের মনোবল এমনিতেই ফিরে আসে।

◆ একই ভুল বারবার না করে বরং ভুল থেকে উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে তা বাস্তবে কাজে লাগানো।

◆ ভয় দূর করে মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে চলা। ঝুঁকি নেয়ার অভ‍্যাস মনের ভয় দূর করে এবং মানসিক শক্তি বাড়ায়।

◆ নিজের ক্ষমতাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা। নিজের ব‍্যর্থতা সহজে মেনে নেয়া। ব্যর্থ হলে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলা।

◆ নিজের চেয়ে অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ নিয়ে কাজ করা। এরূপ পরামর্শের দ্বারা নিজেকে অনেকাংশে মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায়।

◆ কোনো সমস্যার সমাধান করতে না পারলে অন্যদের সহযোগিতা নেয়া। তবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হওয়া। নিজেকে বুঝ দেয়া যে অন্যরা পারলে আমিও পারবো।

◆ প্রথমেই সবকিছু ভয়ংকর বা চাপমূলক না ভাবা। বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ বা জটিল না ভেবে স্বাভাবিক ভাবে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া।

◆ কোনো কাজে খুব হতাশ লাগলে নিজেকে বলা, আচ্ছা ঠিক আছে ‘চেষ্টা করে দেখি’। শিথিল ভাবে চেষ্টা করা। এতে মনের ওপর চাপ কম পড়ে। তখন ব্যর্থতার পরিমাণ কমে যায়।

◆ প্রতিদিন নিয়মিতভাবে খাওয়া, ঘুম ও কিছু সময় শারীরিক ব্যায়াম করা। এতে শরীর ও মন সতেজ থাকে।

◆ ইতিবাচক চিন্তা, ধারণা ও মনোভাব বাড়ানো। যারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে চলে এদের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক রেখে চলা। প্রয়োজনে এদের সাথে নিজের কর্ম ও পরিকল্পনার বিষয়ে মাঝেমধ্যে মতবিনিময় করা।

◆ ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে বর্তমানের নিজের কাজটা ঠিকমতো করে যাওয়া। নিজের কাজ চালিয়ে গেলে ধাপে ধাপে সফলতা আসবে।

লেখক- ড. মুহম্মদ কামরুজ্জামান
ডীন, ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ফরিদপুর

ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইউনেস্কো ক্লাব, ফরিদপুর।

শেয়ার করুন: