শ্রমজীবিদের নেই করোনা ভীতি, সংক্রমণও কম।

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কায়িক পরিশ্রম ও শ্রমজীবি মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তেমন কোনো সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যার তেমন কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তারা খুব একটা এ মহামারিতে আক্রান্ত হচ্ছে না। হয়তো এ কারণেই শ্রমজীবীদের মধ্যে নেই করোনা আতঙ্ক।
নিম্নবিত্ত মানুষরা ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে থাকায় সেখানে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু এরকম কোনো সংবাদ এখন পর্যন্তও পাওয়া যায়নি।

কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমোর, জেলে, নির্মাণকর্মী, ভ‍্যান-রিকশা চালক, ঠেলাগাড়ি কিংবা হকারদের মত কায়িক পরিশ্রমী মানুষের জীবনাচার পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের সাথে কথা বলে দেখা যায়, করোনা মোকাবিলায় যেসব সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, তার বেশিরভাগই তারা অনুসরণ করেন না। নিয়মিত হাত ধোয়া কিংবা মাস্ক ব্যবহারের মত বিষয়গুলো তাদের মধ্যে অনুপস্থিত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে- শ্রমজীবী বা নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার কম। তাদের সামাজিক, আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থানের কারণে এরই মধ্যে তারা অনেক ধরনের ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন। হয়তো করোনা সংশ্লিষ্ট কোনো ভাইরাস দ্বারা তারা আগেই আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কারো মতে- পরীক্ষা না করার কারণে তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার নির্ণয় করা যাচ্ছে না। এ শ্রেণির মানুষ শারীরিক পরিশ্রম বেশি করে। এছাড়া রোদ, বাতাস ও মাটির সংস্পর্শে থাকায় এবং করোনা নিয়ে আতঙ্কে না থাকার কারণে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। তবে কেন নিম্নবিত্ত বা শ্রমজীবী মানুষদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার কম কিংবা কতটা এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপরের পর্যালোচনা থেকে আমাদের মনে হচ্ছে- শারীরিক পরিশ্রম, রোদ, বাতাস ও মাটির সংস্পর্শে থাকলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আবার যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বেশি থাকেন, ফ্রিজে রাখা সংরক্ষিত খাবার খান, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। শুধু কোভিড-১৯ নয়, সব ভাইরাসের জন্যই এসব শর্ত প্রযোজ্য। হয়তো এসব কারণেই শ্রমজীবী মানুষের করোনায় আক্রান্তের হার কম। আবার সচেতনতা ও সামর্থের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ জ্বর-সর্দি হলে খুব একটা পাত্তা দেননা। তাই হয়তো তাদের মধ্যে আক্রান্তের বিষয়ে জানা যাচ্ছে না। আবার করোনায় আক্রান্তের ৮০ শতাংশের কোন উপসর্গ থাকে না। অনেকে আবার এমনিতেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। মোদ্দাকথা, এই মহামারিতে পরিশ্রমীদের থেকে আরাম-আয়েশি ব‍্যক্তিদের করোনা ঝুঁকি বেশি বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

লেখক- ড. মুহম্মদ কামরুজ্জামান
ডীন, ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ফরিদপুর

ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইউনেস্কো ক্লাব, ফরিদপুর।

শেয়ার করুন: