করোনা মহামারি ও এবার রমজানের ইবাদত

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান। এ মাসটি একেবারেই সন্নিকটে। মহামারি করোনার কারণে রহমতের মাস পবিত্র রমজানের বেশকিছু ইবাদতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক এ মহামারি করোনায় পুনরায় লকডাউনে অবস্থান করছে দেশ। এরই মাঝে উপস্থিত পবিত্র রমজান মাস। এ মহামারি থেকে নিরাময় লাভ করতে প্রতিষেধক তৈরি হলেও এ থেকে মুক্ত থাকতে প্রয়োজন ঘরে অবস্থান করা। সুতরাং মহামারি করোনায় এ মাসটি উদযাপনে কয়েকটি বিষয়ে ইবাদতের ক্ষেত্রে ব্যাপক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। আর তাহলো-

◆ মসজিদে জামাতে নামাজ :
করোনার কারণে দেশে পুনরায় লকডাউন বিরাজ করছে। মসজিদে নামাজ ও জামাত ২০ জনে সীমিত করা হয়েছে। রমজান আসলে যারা অন্যান্য সময় তেমন জামাতে নামাজ পড়ে না বা মসজিদে যায় না, তারাও মসজিদে ব্যাপকভাবে উপস্থিত হয়। তাই এবার তারা চাইলেও আগের মতো মসজিদে নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাতে সবাইকে ব্যক্তি উদ্যোগে নিরাপদ পরিবেশে স্বল্প আকারে ঘরেই নামাজ আদায় করতে হবে।

◆ তারাবিহ নামাজ
রমজানের তারাবিহ হলো সন্ধ্যাকলীন বিশেষ ইবাদত তথা নামাজ। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘ সময়ে পবিত্র কুরআন খতমের মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করা হয়। তারাবিহ নামাজের সময় মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম হয়। অথচ করোনার কারণে লকডাউন পরিস্থিতি অতিবাহিত করছে মানুষ। ফলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িতে কিংবা ঘরে একাকি বা স্বল্প পরিসরে আদায় করতে হবে এ নামাজ। এ জন্য এখন থেকেই মুমিন মুসলমানকে এ প্রস্তুতি নিতে হবে।

◆ সামাজিক আয়োজনের যৌথ ইবাদত :
রমজান আসলেই ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে অনেক সামাজিক ও যৌথ ধর্মীয় আলোচনা কিংবা দোয়া অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। অনেকেই রমজান শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল আয়োজন করে থাকেন। এবার এ জাতীয় সব অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকতে হবে।

◆ ঈদের বাজারে কেনাকাটা :
রমজানের শুরু থেকেই ঈদের প্রস্তুতিতে চলে কেনাকাটার ধুম। জনস্বার্থে কোনোভাবেই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসলে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খুলবে না। যদিও স্বল্প পরিসরে এসব মার্কেট খোলা থাকে তাতেও বিচরণ কিংবা যাওয়া আসায় ব্যাপক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

◆ মসজিদে ইতেকাফে সীমাবদ্ধতা :
রমজান মাসের অন্যতম ইবাদতের নাম ইতেকাফ। রমজানের শেষ দশকে মুমিন মুসলমান মসজিদে ব্যাপকভাবে ইতেকাফে অংশগ্রহণ করে। বিশ্বের অনেক দেশেই মসজিদে ব্যাপকভাবে ইবাদতে রয়েছে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা। পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে না আসলে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে না এবারের রমজানের ইতেকাফ। ফলে ব্যক্তি উদ্যোগে ঘরে কিংবা নির্জন পরিবেশে যথাযথ দূরত্ব বজায় রেখে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ইতেকাফ করতে হবে। তাছাড়া এঅবস্থায় মসজিদে ইতেকাফ অসম্ভব হবে এই কারণে যে, সীমাবদ্ধতা থাকলেও মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম হয়। তাই মসজিদে ইতেকাফ করা হবে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। নারীরা এমনিতেই ঘরে ইতেকাফ করেন। সুতরাং তারা ঘরে একাকি সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইতেকাফ করতে পারবেন।

◆ ২৭ রমজান লাইলাতুল কদর :
২৬ রমজান দিবাগত রাতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনার মাধ্যমে মানুষ ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করে। এ রাতের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে কুরআন সুন্নায় অনেক দিকনির্দেশনা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে মসজিদে এ রাতের সব আয়োজনই থাকবে বন্ধ। যৌথভাবে এ রাতের কোনো ইবাদত-বন্দেগিই অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে নিজ উদ্যোগে ঘরে যথাযথ দূরত্ব ও নিরাপত্তার মাধ্যমে এ মর্যাদাপূর্ণ রাতের ইবাদত সম্পন্ন করতে হবে।

◆ ঈদুল ফিতর উদযাপন :
সর্বোপরি রমজান শেষে ঈদ উদযাপনেও থাকবে সীমাবদ্ধতা। ব্যাপক ও বড় আয়োজনে ঈদের নামাজের জামাতেও থাকবে কড়াকড়ি।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত রমজানের ইবাদত করার সুযোগ লাভে আল্লাহর কাছে বেশি তাওবা-ইসতেগফার, দান-ছদকা ও দোয়া করা। আল্লাহ্ মুসলিম উম্মাহকে রমজানের আগেই প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি দান করুন। এবং রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাধ্যমে নিজেদের দুনিয়া ও পরকালের নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন।

লেখক- ড. মুহম্মদ কামরুজ্জামান
ডীন, ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ফরিদপুর

উপদেষ্টা, FCC Bank Limited, ফরিদপুর;
শিক্ষা উপদেষ্টা, ক‍্যাব, ফরিদপুর জেলা শাখা
ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইউনেস্কো ক্লাব, ফরিদপুর।

শেয়ার করুন: