প্রধানমন্ত্রীর ঘর সোনাইমুড়ীতে জীবন যোদ্ধা আশ্রয়হীনদের স্বপ্নপুরণ

ভাষান্তর: | বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মোরশেদ আলম,নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এমন স্লোগান এখন সোনাইমুড়ী উপজেলার বদরপুর-কেঘনা গ্রামে খুবই জনপ্রিয়।

সোনাইমুড়ী হাইওয়ে রাস্তার পাশে নারকেল পাতা দিয়ে ছোট্ট একটা ছাউনি ঘরে থাকতেন শিল্পী রানী দাস (৩৫)। এখন তার ঠিকানা সোনাইমুড়ী উপজেলার “বঙ্গবন্ধু ভিলেজ-২” এর সেমি পাকা ঘরে। আনন্দে আত্মহারা শিল্পী এখন সুখের ঠিকানা পেয়ে উচ্ছ্বসিত।

রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করে কষ্টের জীবন পার করছিলেন শুকুরি বেগম(৪০) এখন তার কষ্টের অবসান ঘটেছে বঙ্গবন্ধু ভিলেজে আশ্রয় পেয়ে। স্বপ্নের ঠিকানা পেয়ে স্বপ্নীল রঙে চেয়ে গেছে শুকরি বেগমের দুচোখ। গত জুন মাসে আশ্রয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের “বঙ্গবন্ধু ভিলেজ-২” এর ঘর ও জমি পেয়েছেন ৪৯ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের এ জমি ও ঘর পেয়ে খুশি মোহাম্মদ উল্লাহ ও তার পরিবার। তিনি বলেন, ‘আগে বসতভিটাও ছিল না। ঘর করব কেমনে?অন্যের জায়গায় নারার ছাউনি দিয়ে ঘর বেঁধে থাকতাম। রোদ বৃষ্টি ঝড়ে কষ্ট করতাম”

তিনি বলেন,‘সরকারি জায়গায় আগে যে ঘরে থাকতাম, বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়তো। বর্ষায়-বৃষ্টিতে রাতে ঘুমাতে পারতাম না,সারা রাত জেগে থাকতাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদের একটা জমি, একটা ঘর (সেমি পাকা) দিয়েছেন। এখন নিশ্চিন্তে ঘরে ঘুমাতে পারবো”।

কেঘনায় অবস্থিত “বঙ্গবন্ধু ভিলেজ-১” এর আশ্রয় প্রাপ্ত মরিয়ম বেগম বলেন,এই ঘর পাওয়ার আগে রেললাইনের পাশে থাকতাম তখন আমাদের কোন মর্যাদা ছিল না, নিরাপত্তা ছিল না। সবাই আমাদের অবহেলা করতো, করুণা চোখে দেখতো,অসম্মানের চোখে দেখতো। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের সঙ্গে আমরা মানুষ হিসেবে মর্যাদাও ফিরে পেয়েছি। এখন সবাই আমাদের মূল্যায়ন করে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কালা মিয়া বলেন, ‘নিজেদের এমন একটা ঘর হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দিয়েছেন, এ ভীষণ আনন্দের। নামাজ পড়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের মত অসহায় মানুষের জন্য আরও কাজ করতে পারেন। আল্লাহ ওনাকে সুস্থ রাখুন, হায়াত বাড়িয়ে দিন। ’

কালা মিয়ার পরিবারের মত গত জুন মাসে কেঘনায় আশ্রয় কেন্দ্রে ঘর পেয়েছেন আরতি বালা (৪২)। তিনি এখানে বেশ কয়েক দিন দুই মেয়ে, এক ছেলে, স্বামী নিয়ে বসবাস করছেন। কল্পনায় ডুবে আছেন তিনি, বিশ্বাস করতে পারছেন না নিজেই নিজের এই আশ্রয় পেয়ে!

মিন্টু চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে। আগের আমাদের কোনো ঠিকানা ছিল না। কষ্ট করে ঝুঁপড়ি ঘরে থাকতাম। এখন সুন্দর পাকা ঘরে থাকি। সুখে আছি”।
জীবন যুদ্ধা এই সৈনিক গুলো এখন নিতান্তই নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন আশ্রয় পাওয়া ঘরের প্রতিটি ইট,বালুতে। এযেনো স্বপ্ন,এযেনো কল্পনা তাদের জন্য।

উল্লেখ্য,সোনাইমুড়ীতে সরকারের আশ্রয় প্রকল্পের “বঙ্গবন্ধু ভিলেজ- ১ ও ২” (কেঘনা ও বদরপুর) ২২০ টি পরিবার সরকারের এই ঘর ও জমি পায়,যার উদ্ভোধন করেন গত জুন মাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। যেখানে একটি বাথরুম,একটি কিচেন,২ টি বেড, টিনের ছাউনি বিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর। প্রতিটি উপকার ভোগীদের ২ শতাংশ জায়গার মধ্যে এই ঘর করে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান বলেন,প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ ভূমিহীন ও গৃহহীনরা উপকৃত হয়েছে। আসলেই প্রধানমন্ত্রী অসাধ্যকে সাধন করেছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহম্মদ উল্লাহ সবুজ বলেন,”নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চল নিচু হওয়ায় মাটি ভরাট করে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘরগুলো করা হয়েছে। যা এমপি সাহেব নিজের উদ্যোগে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এধরণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী “মুজিব বর্ষে” একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না। যা বাস্তবায়ন হয়েছে। ছিন্নমূলরা পেয়েছে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা ঘর ও জমি।

নোয়াখালী-১ (চাটখীল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম বলেন,প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আশ্রয়হীনদের মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া হয়েছে। এবার আশা করে তাদের কষ্টের অবসান ঘটবে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই।

শেয়ার করুন: